সুন্দরবনের বাঘকে নিয়ে আলোচনায় প্রথম যে কয়েকটি বিশেষণ উঠে আসে আলোচনায়, তার অন্যতম তার বুদ্ধি, চাতুর্য্য। শারীরিক বলে তো বটেই, বুদ্ধি ও অনুমান ক্ষমতায় তার জুড়ি মেলা ভার। দীর্ঘদিন মানুষের সাথে সহাবস্থান করে মানুষের ব্যবহার, প্রবণতা নিয়ে তার ধারণা স্বচ্ছ, জঙ্গলে কাজ করা মানুষের তার সম্পর্কে ধারণার সমান না হলেও, কাছাকাছি তো বটেই।
আগে একবার লিখেছিলাম বাঘের ফাঁকি নিয়ে। আজ তেমনই এক বিবরণ - প্রথম পর্বে মানুষ বাঘকে টেক্কা দিলেও কয়েক বছরের মধ্যে খুব দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় বাঘ, পুনঃস্থাপিত হয় জঙ্গলের পুরোনো সমীকরণ।
তা কবে আর কিভাবে হয়েছিলো ? বাঘ আর বাঘের মুখোশ নিয়ে এই লেখাটা থেকে একটা ধারণা করা যাবে :
**********
বাঘের মুখোশ বা মাস্ক নিয়ে আলোচনার শুরুতে কয়েকটি তথ্য দেখে নেওয়া যাক :
* জঙ্গলে বাঘ- মানুষ সংঘাতের শীর্ষে দিনের দুটো সময়কাল - সকাল ৮-১০, দুপুর ২ - ৪, যখন কাজের গতি তুঙ্গে থাকে। এছাড়া, বছরের মাসের হিসেবেও দুটো সময়কাল সংঘর্ষ সর্বাধিক : এপ্রিল - জুন( মধুমাস) , ডিসেম্বর থেকে মার্চ (যা বর্তমানে কাঁকড়ার সেরা সময় ও মাছের আহরণও সেই সময়ে যথেষ্ট ভালো ছিলো) । জঙ্গল বা ফরেস্ট ব্লকের হিসেবে পিরখালী, ঝিলা, চাঁদখালী, আরবেসি, আজমলমারীর সংঘাত হার সবথেকে বেশি, প্রশাসনিক ব্লক হিসেবে গোসাবা, কুলতলী, হিঙ্গলগঞ্জ, বাসন্তী ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। বয়সের হিসেবে সক্রিয় জঙ্গল জীবনের সময়কাল, অর্থাৎ ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে বেশিরভাগ আক্রান্তের বয়স।
********
  ১৯৭৩ সালে সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভের পথ চলা শুরু হয়। প্রথমদিকে সংঘাতের অফিশিয়াল সংখ্যার নিরিখে দেখি বছরে ৫০ - ৬০ টি প্রাণঘাতী সংঘাত, যা পরবর্তীকালে বছরে ৩০ এর নীচে নামানো সম্ভব হয় ও বিগত এক দেড় দশকে গড় হিসেবে সংঘাত সংখ্যা ২০ র নীচে নামানো সম্ভব হয়। এই হিসেবে বেপাশি নৌকা নেই।
এই সংঘাত হার কমানোর পেছনে ভূমিকা থাকে একাধিক পদক্ষেপের : তার অন্যতম কয়েকটির মধ্যে মানুষের জঙ্গলে প্রবেশ ও কাজে নিয়ন্ত্রণ এবং পরীক্ষামূলকভাবে একাধিক পদ্ধতির প্রয়োগ।সেগুলো কি কি ছিলো ? নাইলন নেট ফেন্সিং প্রক্রিয়া বলবৎ হওয়ার আগে ছিলো বৈদ্যুতিন ফেন্সিং এবং মানুষের আদলে মাটি, খড়, বাঁশ দিয়ে বানানো ' ডামি' বা মডেল যা বিদ্যুৎ wiring এর সাথে যুক্ত করা হয়েছিলো, যাতে বাঘকে প্রতিহত করা যায়। এই পদ্ধতিগুলো বিপদজনক হয়ে দাঁড়ায়, এবং ঠিক এই সময়ে উদ্ভাবন করা হয় নতুন এক উপায় যা কয়েক বছরের জন্য সফলভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হয়।
********
 
মাস্ক বা মুখোশ। মুখোশের পদ্ধতি mimicry প্রিন্সিপাল অনুযায়ী প্রয়োগ করা হয় প্রথম ১৯৮৬-৮৭।
কলকাতার ' সায়েন্স ক্লাবে' এক ছাত্রের মাথায় আসে মানুষের মুখোশ ব্যবহারের উদ্ভাবন প্ল্যান। প্রকৃতির একাধিক প্রাণী - যেমন প্রজাপতি, শুয়োপোকা, গুবরে পোকা তাদের শরীরে চোখের মতো প্যাটার্ন ব্যবহার করে শিকারিদের ভুল বোঝাতে পারে।masks2 বাঘের প্রাণঘাতী আক্রমণ ঘাড় ও মাথা লক্ষ্য করেই হয়ে থাকে। মাথার পেছনে মাস্ক ব্যবহারে বাঘের পেছন থেকে আক্রমণ করা কি প্রতিহত করা সম্ভব হবে ? যেহেতু বাঘ অতর্কিতে আক্রমণ করে ' স্টেলথ ' ( stealth) শিকারি হয়ে, মাথার পেছনে রাখা মুখোশ দেখে বাঘ গায়ে নাও আসতে পারে, এমন একটা ভাবনা আসে বনবিভাগের আধিকারিকদের মাথায়।
সেই ভাবনা থেকে নভেম্বর ১৯৮৬ থেকে পরের বছর অক্টোবর অবধি হালকা, রাবারজাত প্লাস্টিক থেকে তৈরি মুখোশ বিলি করা হয় জঙ্গলজীবীদের মধ্যে। নভেম্বর ৮৬ থেকে মার্চ ৮৭ অবধি প্রায় আড়াই হাজার মুখোশ বিলি করা হয়। প্রথম পর্যায়ে তা বিলি হয় মাছের পাশের নৌকায় ও কাঠের ক্যুপের দলের মধ্যে। ৮৭ সালের এপ্রিল -মে জুড়ে মধুমাসে হয় দ্বিতীয় পর্যায়, এবারে বিতরণ করা হয় মৌয়াল দলে। তৃতীয় ও শেষ পর্যায়ে জুন থেকে অক্টোবর টার্গেট গ্রূপ হয় জেলে দল।
এই এক্সপেরিমেন্ট থেকে কি কি বেরোলো ? প্রথম পর্যায়ে মাস্কের ব্যবহার ঐচ্ছিক ছিলো যেহেতু একটা নতুন প্রচেষ্টার introductory স্তর ছিলো তা ; দ্বিতীয় পর্যায়ে মাস্ক ব্যবহার হলো compulsory - তাতে লক্ষ্য ছিলো জেলে বাউলে দলে তার বাধ্যতামূলক প্রয়োগের মাধ্যমে জানার চেষ্টা মডেল হিসেবে মাস্ক ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে সামগ্রিকভাবে। শেষ স্তরে এই প্রক্রিয়া আবার ঐচ্ছিক হয়ে উঠলো, যাতে মূল্যায়ন করা যায় এই পদ্ধতির গ্রহণযোগ্যতার সাফল্য বা খামতি কতটা।
প্রথম পর্যায়ের মুখোশ ব্যবহার করে কি দেখা গেলো ? প্রায় পাঁচ হাজার জঙ্গলজীবীর মধ্যে ৮৭৭ জন মাস্ক পরতে রাজি হয়েছিলেন। এদের মধ্যে তিনজন বাঘের আক্রমণে মারা যান, পাঁচজন আহত হন। মৃত কেউই মাস্ক পরে ছিলেন না। আক্রান্ত অনেকেই কাজের ফাঁকে বা শেষে দল থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন, খাওয়ার মাছ ধরবেন বলে জাল দিচ্ছিলেন বা রান্নার পালা সংগ্রহে জঙ্গলে পা দিয়েছিলেন। খুব অদ্ভুতভাবে, মাস্ক পরিহিত কেউ আক্রান্ত হলেন না।
দ্বিতীয় অংশে মধু ও মাছের কাজে ৮৮২ টি মাস্ক দেওয়া হলো জঙ্গলজীবিদের। এবার দেখা গেলো সাতজন মৌলে ও চারজন জেলে বাঘের হানায় জঙ্গলে পড়লেন। tiger_eleganttoursএকজন কেউও মাস্ক পরে ছিলেন না। এপ্রিলের শুরুর দিকে মধুর দলে দুজন বাঘের হাতে পড়ার পর মাস্ক পরা নিয়ে আরো কড়াকড়ি জারি হলো , দেখা গেলো বাকি এপ্রিল ও মে মাস মধু সংগ্রহ নির্বিঘ্নে কাটলো। জেলেদলে আক্রান্ত প্রত্যেকেই জঙ্গলে প্রথম পর্যায়ের মতো পালা ভাঙতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
শেষ পর্যায়ে দেখা গেলো ৬০৪ জন ঐচ্ছিকভাবে মাস্ক চাইলেন, তাঁরা তার আগের পর্যায়েও মাস্ক পরেছিলেন। মাস্ক পরিহিত কেউ আক্রান্ত হলেন না, ৮৭ সালের জুন ও অক্টোবরের মধ্যে মৃত এগারোজন জেলের কারুর কাছেই মুখোশ ছিলো না।
আরো কিছু পর্যবেক্ষণে উঠে এলো সজনেখালীর অফিস থেকে পাশ করানো জঙ্গলজীবীরা মাস্ক ব্যবহারে আগ্রহী, অথচ বাগনা ( বসিরহাট রেঞ্জ) অফিসের পাশি নৌকারা তাতে বিশেষ আস্থা দেখালেন না।দেখা গেলো সমস্ত বাঘের আক্রমণ বাগনার দিকে ঘটলো, সজনেখালীর দিকে একটিও না। অথচ, বাঘের আনাগোনা দুই দিকেই। সজনেখালীর মৌলে দল একাধিকবার বাঘ দেখলো কাছেপিঠে, বাঘ ধাওয়াও করলো দু এক দলকে - ফলে, সময়ের প্রায় একপক্ষকাল আগে তারা চাক কাটা অসম্পূর্ণ রেখে পাশ ফেরত দিতে চাইলো। ওদিকে, বাগনার নৌকারা একটিও আক্রমণের ক্ষেত্রে আগাম আন্দাজ পেলো না, মাস্ক ব্যবহারে অনীহার সাথেই দেখা গেলো আক্রমণ প্যাটার্নে দুই অংশের অসামঞ্জস্য।
*****
এই এক্সপেরিমেন্টের সাফল্যের মেয়াদ প্রায় বছর তিনেক ছিলো। এই সময়ে বাঘ একাধিকবার মুখোশ পরা জঙ্গলজীবীদের কাছেপিঠে থাকলেও একবারও আক্রমণ করতে উদ্যত হয়নি। অথচ একই সময়কালে আক্রান্ত মাস্কবিহীন জঙ্গলজীবীদের সংখ্যা তিরিশ ছাড়িয়ে গেছিলো।
ধীরে ধীরে বাদাবনের বাঘ বুঝলো মুখোশের বিষয়টা, ও কিভাবে মানুষ তাকে বোকা বানিয়ে ফেলছে। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের সাথে ও কাছে থেকে সুন্দরবনের ডোরাকাটা সময় ও পরিস্থতি অনুযায়ী মানুষের চলন, প্রবণতা ও তার বৈশিষ্ট্য রপ্ত করতে বেশি সময় নেয় না। দেখা গেলো, একটা সময়ের পর মাস্ক বা মুখোশ পরিহিত হয়েও বাঘের আক্রমণের মুখে পড়তে থাকলেন জঙ্গুলেরা। আক্রমণের প্যাটার্ন ও ধরন থেকে নির্ণয় করা গেলো, মাস্ক সমেত ও মাস্কবিহীন - দুই অবস্থাতেই আক্রমণ হচ্ছে। আক্রমণের ধরন সুন্দরবনের কেতাবী ধারায় - অসতর্ক, কিছুটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে চকিতে পেছন বা পাশ থেকে এসে ঘাড়ের কাছে আক্রমণ।
সেই থেকে জঙ্গলের কাজে পাশ ছাড়ার সময় ভারতীয় সুন্দরবনের অফিসগুলোয় জঙ্গলজীবীদের ভীড়ে মাস্ক সমেত পাশ নিয়ে জঙ্গলে গমনের রেওয়াজ আজও অটুট। মাস্কের অব্যর্থতা যে নেই, তা নিয়ে দ্বিমত কারুর না থাকলেও, নিরস্ত্র মানুষের কাছে যে কোনো প্রতিরোধের মতোই মাস্ক হয়ে উঠলো এক বাড়তি হাতিয়ার - সাক্ষাৎ বয়ানে তার পক্ষে, বিপক্ষে দুই রকম মতই পাওয়া গেলো।
কমিউনিটি বা সমষ্টির মধ্যে কোনো জনমত তৈরি করার সেই প্রয়াস বর্তমান ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট - গ্রাম বা সম্পর্কের উন্নতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পথিকৃৎ। যে কোনো নতুন প্রয়াসে বাধা, প্রতিরোধ থাকেই - পর্যায়ক্রমে তার প্রয়োগ ও স্থানীয় জনমত বৃদ্ধিতে দরকার হয় ধৈর্য্য, সহযোগিতা। সুন্দরবনে বর্তমানে জল, জঙ্গল, নাইলন জাল ও কাজের পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে পরিবর্তনগুলো আনার প্ৰচেষ্টা জারি, তাও একে একে সাফল্য পাবে আশা করি।
মাস্ক বা মুখোশ একটা প্রতিরোধ পদ্ধতি, বাকি পদ্ধতিগুলোর সাথেই তার প্রয়োগ জরুরি। জঙ্গলে সুরক্ষিত চলাচলের কয়েকটি পদ্ধতি আছে যা বারংবার ঝালিয়ে নেওয়া জরুরি। দলবদ্ধ থাকা, সতর্ক থাকা ও জঙ্গলের exposure time কমানো - বাদায় এই তিন গোল্ডেন রুল বা সোনালি নিয়মের বিকল্প নেই । বাঘের জঙ্গলে কতটা সময়ে কাজ ও কিভাবে কাজ, তা নিয়ে আরো সচেতনতা ও বুদ্ধিমান প্রয়োগের মাধ্যমেই বাঘ - মানুষ সংঘাত হ্রাস করা সম্ভব।
********
* তৎকালীন ফিল্ড ডিরেক্টর, অ্যসিস্টেন্ট ফিল্ড ডিরেক্টর তথা বাঘের মাস্ক নিয়ে গঠিত রিসার্চ উইংয়ের স্বনামধন্য বনকর্মীদের উল্লেখ এই প্রসঙ্গে আবশ্যিক।
* আমার জঙ্গলে প্রথম যাওয়া এই সময়ে। তখন নিতান্তই অল্প বয়স, কিন্তু মনে পড়ে এই পদ্ধতি নিয়ে বন বিভাগ ও সুন্দরবন নিয়ে আগ্রহী মহলে বিভিন্ন আলোচনা, মতামত ও পর্যবেক্ষণ কানে এসেছিলো।
* এই প্রসঙ্গে সুন্দরবন বাদ দিয়ে এমন দুটো জায়গার কথা মনে পড়ে যেখানে এই এক mimicry principle এর মাধ্যমে হিংস্র কার্নিভোর ঠেকানোর প্রয়াস দেখা যায়। mask3কর্ণাটকের নাগারহোলে টাইগার রিজার্ভ লাগোয়া কোদাগু জেলায় বাঘের হানা থেকে মানুষকে বাঁচাতে ঠিক একইরকম মাথার পেছনে মুখোশের প্রচলন দেখা যায় দু বছর আগে।
গত বছর মধ্য ভারতের পেন্চ টাইগার রিজার্ভের পার্সেওনি,রামটেক, পাওনি, দেওলাপার তেহসিলে জঙ্গল লাগোয়া অংশে গ্রামবাসীদের মাস্ক দেওয়া হয়।
দুই জায়গাতে ল্যান্ডস্কেপ, চ্যালেঞ্জ সবই সুন্দরবনের থেকে ভিন্ন , তবে বাঘকে ঠেকিয়ে রাখার এই পন্থা 'শর্ট টার্ম' সাফল্য পায়।
এছাড়া বলতে হয় পশ্চিম ক্যানাডার লাম্বারজ্যাকদের কথাও। ভ্যাঙ্কুভার আইল্যান্ড, ফ্রেজার ক্যানিয়ন ইত্যাদি জায়গার জঙ্গলে 'টিম্বার' দল বা গাছ কাটার সংগঠিত দলে হ্যাট বা বড়ো টুপির প্রচলন দেখা যেতো, যার পেছন দিকে মানুষের চোখ আঁকা থাকতো। সেখানে অবশ্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাঘ নয়,শীর্ষ শিকারি হিসেবে উপস্থিত মাউন্টেন লায়ন / পিউমা/ কুগার ( cougar)। ঘন জঙ্গলে তার হাত থেকে রেহাইয়ের এই পন্থাও প্রচলিত এক পদ্ধতি ছিলো, যদিও সেখানে সংঘাত হার সুন্দরবনের তুলনায় নগণ্য।
ইউপি৩
২২/৮/২৫
* বাঘের ছবি নিবেদন করেছেন বীরেন দা Biren Mandal। বন বিভাগে দীর্ঘদিন তিনি কর্মরত ছিলেন, হাতের তালুর মতো গোসাবা, সাতজেলিয়ার উল্টোদিকে বনের হদিশ দেন। বর্তমানে পর্যটনে যুক্ত এই মানুযটি আমার এক অন্তরঙ্গ সহযোগী।
* বাকি ছবি জঙ্গলবন্ধুদের উপহার, সুন্দরবনের প্রকৃতি ও মানুষকে যাঁরা অনায়াসে আমার কাছের করে তোলেন সর্বদা।

 

লেখক: উদ্দালক দাস